টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে নিরাপত্তার স্বার্থে এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে এই রুটের দুটি আন্তনগর ট্রেন মাঝপথে আটকে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রেলপথের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। একপর্যায়ে রেললাইনের ওপর পানি উঠে গেলে ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন ছেড়ে যায়। তবে জানালীহাট স্টেশনের কাছে সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ট্রেনটি সেখানে থামিয়ে দেওয়া হয়। ট্রেনটিতে প্রায় ৮০০ যাত্রী রয়েছেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ মনে হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণের কাজ চলছে।’
পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাতিল করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। রেললাইনের ওপর থেকে পানি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ লাইনের ২২ নম্বর কালভার্টের গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কালভার্টসংলগ্ন মাটি ধসে পড়েছে। এতে ওই রুটেও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
প্রতিনিধি/একে