ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ৭ জুলাই ২০২৬ | ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩:৩৯
চলমান বার্তা:
জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগরী
চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৩৩  (ভিজিটর : )

৪২ বছরের রেকর্ড ভেঙে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নেমেছে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। 

প্রবল এই বর্ষণের সাথে দুপুরের জোয়ার যোগ হওয়ায় নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে, পানি উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়কে। এমনকি রেললাইন ডুবে গিয়ে আটকা পড়েছে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী ট্রেনও।

টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নগরীর বেশির ভাগ খালের পানি উপচে মূল সড়কে চলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত খালের স্লুইস গেটগুলো দুপুরে খুলে দেওয়া হলেও জোয়ারের কারণে পানি নামতে পারেনি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ভারী বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি খাল বেয়ে নদী বা সাগরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হু হু করে পানি বাড়তে থাকে নগরীর একের পর এক এলাকায়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পোর্ট কানেকটিং সড়কের হালিশহর আবাসিক থেকে নয়া বাজার অংশ, অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এবং আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি ও মৌলভী পুকুর পাড় এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। 

হাটহাজারী-অক্সিজেন রোডের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বড় দিঘির পাড় এলাকায় কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মূল সড়কেই জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে। ডুবো সড়কেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বড় ও মাঝারি ধরনের বিভিন্ন যানবাহন। 

এছাড়া অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের একাংশ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে পানির নিচে রেলপথ ডুবে যাওয়ায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে ষোলশহর এলাকায় প্রায় সাড়ে ছয়শ যাত্রী নিয়ে আটকা পড়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। শুধু সড়ক বা রেলপথ নয়, পানি ঢুকেছে মানুষের ঘরের ভেতরও। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বেশ কিছু বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এর আগে রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টির পরিমাণ ওইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল ৪০ মিলিমিটার এবং সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছিল ২০৬ মিলিমিটার। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সাথে জোয়ারের পানি যোগ হওয়ায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোড, কাস্টম হাউজ প্রাঙ্গণ, জামালখান বাই লেইন, রহমতগঞ্জ, হালিশহর আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ বেপারীপাড়া কাঁচা বাজার, মৌলভীপাড়া ও কাঠগড় মুসলিমাবাদ এলাকাসহ নগরীর সিংহভাগ জেলাই এখন পানির নিচে। জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1781938701_RightPanelSquare.jpg
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।