ইরানের পাঁচ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চার প্রতিবেশী দেশ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়। এবারের হামলায় কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাবিষয়ক পূর্ব সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরজিসির এই বিবৃতির পর কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুয়েতকে লক্ষ্য করে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছিল ইরান। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সব কটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার রাতে ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে এর মধ্যে আটটি ধ্বংস করা সম্ভব হলেও বাকি দুটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এর জের ধরে গত ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর সেই হামলার জবাব দিতেই বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় চার দেশে এই পাল্টা হামলা চালাল ইরান।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা ইরানে অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, ওই রুটে যুক্তরাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেই তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে।
দেশবার্তা/একে