যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইইএ তাদের সর্বশেষ মাসিক তেলের বাজার প্রতিবেদনে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী তেলের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাত পুনরায় শুরু হলে জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার আশা ভেস্তে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আইইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। জ্বালানির এই তীব্র ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর জুন মাসে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এই সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।
আইইএ পূর্বাভাস দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যদি স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে দৈনিক ৪৬ দশমিক ২ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে চলমান সংকটের কারণে ২০২৬ সালে দৈনিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেলের ঘাটতি থাকবে। সূত্র: আল-জাজিরা
দেশবার্তা/একে