ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  রোববার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২১:১১
চলমান বার্তা:
শফিকুর রহমান
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব
ইউএনবি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২০:২১ আপডেট: ১১.০৭.২০২৬ ২০:২২  (ভিজিটর : )

সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।

তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।

শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।

সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

দেশবার্তা/একে

মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।