টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর, বালাপাড়া, শহীদবাগ, হারাগাছ ও আশপাশের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারের বসতবাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়কে পানি ঢুকে পড়েছে। কৃষকদের আবাদ করা আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন সবজিক্ষেত এবং পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম জানান, পানি বাড়ার কারণে নৌকা ছাড়া অনেক এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহিতন নেছা নামে এক বৃদ্ধা বলেন, বাড়ি, গবাদিপশু ও হাস-মুরগি নিয়ি বিপাকে আছি। এইগলা নিয়া এ্যালা কোটে যামো তার বুদ্ধি নাই।’ এই আকস্মিক বন্যার ফলে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. পাপিয়া সুলতানা জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৫০টি পরিবারে মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে। যদি উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা নদীর পানি উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পানি ধীরে ধীরে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীতে না যাওয়া, শিশুদের নিরাপদে রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর