বরগুনায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী) আদালত-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো পুলিশ সদস্যের নাম মো. মিরাজ হোসেন (২৯)। তিনি ভোলা জেলার চরমনসা এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি তালতলী থানায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুলাই আমতলী উপজেলার বাসিন্দা আতাউর রহমান (আতিক) তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ এনে মিরাজ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী বাতাসীকে (ছদ্মনাম) আসামি করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নেন।
মামলার শুনানিতে সোমবার মিরাজ আদালতে হাজির হলে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ১২ জুলাই একই মামলায় অপর আসামি বাতাসী আদালতে হাজির হলে তাঁর দুই নাবালক সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালে আতাউর রহমানের সঙ্গে বাতাসীর বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালে জীবিকার প্রয়োজনে আতাউর সৌদি আরব গেলে কিছুদিন পর থেকেই মিরাজ হোসেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনায় ভাড়া বাসায় তাঁদের একসঙ্গে দেখতে পান বাড়ির মালিক ও স্থানীয় কয়েকজন- এমন দাবিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থ চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত বাতাসী আদালতে দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বরগুনায় ছিলেন না, ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ ও ভরণপোষণসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে ও মিরাজকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দেশবার্তা/একে