ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ২২ জুলাই ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ২০:১৩
চলমান বার্তা:
যমুনার প্রবল স্রোতে ভাঙনের ঝুঁকি
তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১৮:২৭  (ভিজিটর : )

যমুনা নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙনের কবলে পড়ে টাঙ্গাইলের তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইতোমধ্যে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের আঘাতে টাঙ্গাইলের তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ভাঙনের মুখে পড়ে। এর ফলে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এতে অনেককে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয়—দুটিই বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাত থেকেই মহাসড়কটি যমুনার ভয়াল ভাঙনের মুখে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী বাঁশ ও গাছ কেটে নদীর স্রোত ঠেকানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নদীশাসনের নামে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করতে হলে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, "সকাল থেকে শ্রমিকরা জিওব্যাগ ফেলছেন। তবে গত রাতে আমরা এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি কেবল সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছর একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।"

আরেক বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেন, "যমুনা নদী কয়েক দিন ধরেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভুয়াপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগ হবে।"

তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম বলেন, "গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকার নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে যমুনার তীব্র স্রোতের আঘাতে ভাঙন শুরু হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসী একযোগে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেন।"

তিনি আরও বলেন, "এই বাঁধ ভেঙে গেলে গোপালপুরের শাখারিয়া এলাকাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ মুহূর্তেই প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, "স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে যেসব স্থানে স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি আরও নিরাপদ থাকবে।"

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, "ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে দুই দফা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "সড়কটি আপাতত বন্ধ থাকলেও বিকল্প সড়ক দিয়ে যান চলাচল করছে। মানুষের সাময়িক ভোগান্তি দ্রুত কমিয়ে আনতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।"

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।