সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কানের সোনার দুল ছিনিয়ে নিয়ে শিশুটির মরদেহ আসবাবপত্রের (আলমারি) ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহত হয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই নারীর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সোমবার রাতে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৯টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত শিশু ও নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ওই ছাত্রীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন (৯)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে এবং ৪১ নম্বর কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুরাইয়া আক্তার (৪৫)। তিনি একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং বিদ্যালয়ের সামনেই ঝালমুড়ির দোকান চালাতেন।
জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা স্কুলে পৌঁছালে সুরাইয়া তাকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ঝালমুড়ি খেতে দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে তার কানের দুল খুলে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা শেষে মরদেহটি ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখেন।
দুপুরে ক্লাস শেষে ফারজানা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি ও এলাকায় মাইকিং শুরু করেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সুরাইয়াকে ফারজানাকে ডেকে নিয়ে যেতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বিকেলে পুলিশ সুরাইয়ার বাড়িতে গিয়ে ড্রয়ার থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজারো ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সুরাইয়ার বাড়ি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সুরাইয়াকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পুলিশ শুরুতে মরদেহ উদ্ধার করতে বাধার মুখে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানাকে বিদ্যালয় চত্বর থেকে ডেকে নিয়ে যান সুরাইয়া। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়।’
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই শিশুটিকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহত হন এবং তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত শিশু ও নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিনিধি/একে