ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৪৭
চলমান বার্তা:
তালিকায় বাদ পড়ার অভিযোগ, সব জেলেকে অন্তর্ভুক্তির দাবি
সুন্দরবনের ৮ হাজার ২৭১ জেলে পরিবার পাচ্ছে ভিজিএফ চাল
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৩৪  (ভিজিটর : )

সুন্দরবনে তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো বেকার হয়ে পড়া সুন্দরবন-নির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জন্য ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেক প্রকৃত জেলে পরিবার তালিকার বাইরে থেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ১২টি উপজেলার সুন্দরবন-নির্ভর তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ২৮ জুলাই থেকে প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট- এই তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে সুন্দরবন-নির্ভর হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী বছরের এই সময়টাতে কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে এবার প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিটি জেলে পরিবার জুলাই ও আগস্ট- এই দুই মাসে মাসে ৪০ কেজি করে, মোট ৮০ কেজি চাল পাবেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৪০ জন এবং সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৯ হাজার ৪০০ জন।

এদিকে, বরাদ্দের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। বাগেরহাট জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব সুন্দরবন-নির্ভর অনেক প্রকৃত জেলে পরিবার বন বিভাগের তালিকায় স্থান পাননি। বিশেষ করে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের অনেক জেলে বাদ পড়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাদ পড়া প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে, সে জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের আবেদন ও প্রচেষ্টার পর বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো সুন্দরবন-নির্ভর বেকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে। এতে জেলে পরিবারগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। তবে তালিকাভুক্ত জেলেদের তুলনায় বরাদ্দের সংখ্যা এখনও সীমিত। আশা করছি, আগামীতে সুন্দরবন-নির্ভর সব জেলে পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসবে।

প্রতিনিধি/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।