ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে হাঙ্গেরিতে অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফরিদুর রহমান বুলবুল (৩২)। রোববার (১৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দাগনভূঞা থানা পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানায়।
নিহত ফরিদুর রহমান দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহিগুণী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বুলবুল। ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল নামে এক দালালের সঙ্গে চুক্তি করে ইতালি যাওয়ার জন্য ১৮ লাখ টাকা দেন তিনি। প্রতিশ্রুতি ছিল, বিমানে সরাসরি ইতালি পাঠানো হবে। কিন্তু বাস্তবে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি জঙ্গলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা জানান, বুলবুল এর আগে সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এরপর কয়েক দফায় চেক ও নগদে মোট ১৮ লাখ টাকা দালালকে পরিশোধ করেন।
নিহতের মেজো ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবুল জানান, গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বুলবুল। সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও তাকে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়।
ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি জানান, দালাল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরাসরি ইতালি না নিয়ে স্থলপথে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ২৬ জুনের পর থেকে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে দালাল জানান, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এরপর থেকে দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রোববার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুলবুলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় যাচাই শেষে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নিহতের ভাই কাজী নজরুল ইসলাম সরকারের কাছে দ্রুত বুলবুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দালাল মো. দুলালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, সাত বছর আগে চাচাতো বোন কহিনুর আক্তার পলিকে বিয়ে করেন বুলবুল। তাদের পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর পরিবারের খোঁজ নেওয়া হবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ফরিদুর রহমানের মরদেহ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অনুরোধে তার পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করে পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/একে