ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২০:৪৩
চলমান বার্তা:
সারাদেশে গ্যাস সংকট চরমে, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
#ফিলিং স্টেশন, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ এখন মাত্র ১৫-৩০ শতাংশ
রেজা মাহমুদ
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১৯:০৮  (ভিজিটর : )

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনানালে কারিগরি ক্রটির কারণে দু-দিন ধরেই গ্যাসের সরবরাহ নিম্নমুখী, বুধবার তা প্রকট আকার ধারণ করে। এদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ নেমে দাঁড়ায় মাত্র ১৫-৩০ শতাংশে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, কোথাও কোথাও তা কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিক হারে কমায় পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। যা সমাধানে অন্তত ২-৩ দিন সময় লাগবে।  

বুধবার সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস নিতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে। অনেকের অভিযোগ, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। একই চিত্র পুরো রাজধানী জুড়েই। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি গাড়িতে গ্যাস ভরতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, আবার কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

গাবতলীর পূবাচল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, ভোর ৫ টা থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে যা সকাল ৮ টার মধ্যে টেকনিক্যাল সিগনাল হয়ে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত  পৌছে যায়।  এই ভাবে কল্যাণপুর এবিএন ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের লাইন শ্যামলী ছাড়িয়ে যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। কর্মীরা বলছেন প্রতিটি গাড়িতে গ্যাস ইনটেকে স্বাভাবিক সময়ে চেয়ে ৫ গুন বেশি সময় লাগছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে বৃহস্পতিবার স্টেশন বন্ধ রাখতে পারেন তারা।  

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি স্টেশনসহ সব শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাসের স্বল্পচাপের জটিলতায় ভুগতে হবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহেশখালীতে থাকা এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমেছে। তবে কোন টার্মিনালে কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে, কখন থেকে সরবরাহ কমেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তিতাস। বরাবরের মতই গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য গৎবাঁধা ভাষায় ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে গ্যাস বিতরণকারী এ কোম্পানি।

এর আগে সোমবার আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছিল, সরবরাহের ঘাটতির কারণে তাদের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাসের ‘মারাত্মক স্বল্পচাপের’ মুখে পড়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে সরবরাহ ঘাটতির কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নাম কিংবা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানানো হয়নি। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর কারিগরি ত্রুটিকে সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরবরাহ নেমেছিল ১৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছিল কোম্পানিটি।

দেশবার্তা/এমআর


মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।