দেশে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলেছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। বরং স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ধরনের গুজব মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে উদ্বেগজনক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৩১ দিনের, অকটেন ৩৬ দিনের, পেট্রোল ২০ দিনের, ফার্নেস অয়েল ২৫ দিনের এবং জেট ফুয়েল ২০ দিনের। এই মজুত স্বাভাবিক সময়ের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন নেই। জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে ৪৫ দিন ও ৬০ দিনের মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলছে। ভবিষ্যতে এই মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে আরও এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি হবে। এছাড়া আগস্ট মাসে আরও দুই লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব চালান এসে পৌঁছালে জ্বালানি মজুত আরও শক্তিশালী হবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।
মুখপাত্র বলেন, শুধু ডিজেল নয়, অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রেও কোনো সংকট নেই। আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সরকার আগাম আমদানির ব্যবস্থা করেছে, যাতে সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
সম্প্রতি মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগ বলছে, এ পরিস্থিতির সঙ্গে জ্বালানি তেলের কোনো সম্পর্ক নেই। গ্যাসের সাময়িক সমস্যাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সঠিক নয়।
দেশবার্তা/আরএইচ