সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তারা।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্যামনগর পৌর সদরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
এর আগে জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে কয়েকজন বিক্ষোভকারী হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ছবিতে প্রতীকী আঘাত করেন।
পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁকে জাতীয় সংসদ ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাইয়ের একটি ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয় বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা গুরুতর অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি রাখে। তাঁরা বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম এবং উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণাসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
তবে এ বিষয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কিংবা তাঁর দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ