গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য বহিরাগতদের কাছে ফাঁস করে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি-এর খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপকসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার অফিস মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় ঠিকাদার গোলাম রাব্বি বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন।
মামলায় খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বাদী গোলাম রাব্বি উত্তরা ব্যাংকের খেপুপাড়া শাখার একজন নিয়মিত গ্রাহক। গত ২৯ জুন ২০২৬ সকাল ১১টার দিকে তার হিসাবে ঠিকাদারি কাজের বিল বাবদ ৬ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা জমা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় আসামি হাবিবুর রহমান এবং শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজশে তাকে চাপ প্রয়োগ করে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার একটি কাউন্টার চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজের হিসাব থেকে কিছু টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করেন। এতে হিসাবে জমা কমে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮০৩ টাকা ২১ পয়সা থাকায় সেদিন ওই চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, দুই দিন পর শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাদীর হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হাবিবুর রহমানকে সরবরাহ করেন। তিনি জানান, ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা পূরণ করতে হিসাবে আরও ৩২ হাজার টাকা প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তথ্যের ভিত্তিতে হাবিবুর রহমান বাদীর অনুমতি ছাড়াই তার হিসাবে ৩২ হাজার টাকা জমা দেন। এরপর ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাদীর অনুপস্থিতিতে বিতর্কিত ওই চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
বাদী গোলাম রাব্বি জানান, এ ঘটনায় তিনি উত্তরা ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’-এর পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১২ জুলাই ২০২৬ আপস-মীমাংসার কথা বলে তাকে ব্যাংকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি ও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত সিআইডিকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উত্তরা ব্যাংকের খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো গ্রাহকের তথ্য অন্য কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল এবং আমরা যথাসময়ে তার জবাব পাঠিয়েছি।”
প্রতিনিধি/আরএইচ