বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
জানা গেছে, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে ব্যাংককে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। যাত্রাবিরতিকালীন এই সময়েই থাই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমশক্তি রপ্তানি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সম্ভাবনা। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।
পাশাপাশি, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থায় (আসিয়ান) ‘সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের অবিরত সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
জবাবে থাই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদি আশ্বাস দিয়ে জানান, এ বিষয়ে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় থাকবে।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
দেশবার্তা/একে