মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’-এর প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও চরম অনিয়মের দায়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদচ্যুত বা বরখাস্ত করার দাবিতে মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
সিজেপির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ দাবি না মানলে আগামী দিনে গত ২০ জুলাইয়ের চেয়েও বিশাল ও তীব্রতর আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামবে তারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া-তে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিজেপির প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা। দীর্ঘ বৈঠক শেষে সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারপক্ষকে এই চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে মোদী সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন সিজেপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস জানান, তারা কেন্দ্র সরকারের সামনে লিখিতভাবে ৩টি অলঙ্ঘনীয় প্রাথমিক দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থা স্থায়ী সংস্কারে ৫ দফার একটি এজেন্ডা পেশ করেছেন।
সংগঠনটির প্রধান তিনটি দাবি হলো- কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ বা বরখাস্তকরণ; নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের জেরে যেসব শিক্ষার্থী চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া; আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা সমস্ত এফআইআর ও আইনি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কারো বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়ার সরকারি নিশ্চয়তা প্রদান।
আলোচনার বরাতে সিজেপি প্রতিনিধিরা আরও জানান, মোদী সরকার আন্দোলনকারীদের ২য় ও ৩য় দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি ব্যক্ত করেছে। তবে আন্দোলনের মূল দাবি- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। তবে সিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর বিদায় নিশ্চিত হওয়া ছাড়া ৫ দফা স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকারের সাথে পরবর্তী কোনো আলোচনাতেই অংশ নেবে না তারা। (সূত্র: দ্য হিন্দু)
দেশবার্তা/একে