দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে পুড়ে গেছে ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও রেলপথ যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চার দিন আগে শুরু হওয়া এই আগুন বাতাসের তীব্রতার কারণে দ্রুুুুুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর নগরী বোর্দোর আশপাশের গ্রামগুলো থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে বোর্দো থেকে স্পেন সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
রোববার ফরাসি সংবাদপত্র লা ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুন্যেস জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। তাই গৃহহীন হওয়া বাসিন্দাদের এখনই বাড়ি ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি।
আঞ্চলিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এই দাবানলে ইতোমধ্যে ৪২ হাজার হেক্টর জমি ভস্মীভূত হয়েছে। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি ১৯৪৯ সালের পর ফ্রান্সে হওয়া সবচেয়ে বড় দাবানল। ওই বছর এক প্রাণঘাতী দাবানলে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
আগুন নেভাতে সপ্তাহজুড়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ফরাসি দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের সহায়তায় মাঠে নেমেছেন ফরাসি সেনাবাহিনীর দেড় হাজার সদস্য।
অভিযানের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ও স্থানীয় দমকল বাহিনীর ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ বলেন, অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে বাতাস অনেক বেশি গরম হয়ে গেছে। এতে তৈরি হওয়া ঘূর্ণি ও তাপপ্রবাহ দাবানলকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
দেশবার্তা/একে