দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও এ ধরনের কণা পাওয়া গেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি নমুনার উভয়টিতেই এ কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা মিলেছে।
এছাড়া ‘ক্লোজ আপ রেড হট’, ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’, ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’সহ একাধিক ব্র্যান্ডেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’সহ আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, টুথপেস্টে কোনোভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিবেশ দূষণও বাড়াতে পারে। তাই বাজারে থাকা টুথপেস্টগুলোর মান যাচাই, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে রিটের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এখন হাইকোর্টে রিটটির শুনানির পর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে