ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ১১ মে ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২০:৪১
চলমান বার্তা:
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প: ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়
এম আর আমিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১৪:৩৮  (ভিজিটর : )

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন- এটি শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপান্তরের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এ প্রকল্পে খরচ নিয়ন্ত্রণ করে সরকার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে, যা বর্তমানে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কক্সবাজারে পর্যটক বাড়লে সরাসরি অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে। শুধু পর্যটন নয়, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিচক্ষণতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ এবং দক্ষতায় রেলের একটি প্রকল্প থেকেই ৬৬৯৮ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার (প্রায় ৭ হাজার কোটি) টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গেছে।  ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার দোহাজারী কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প থেকে বিশাল এই অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গতবছরের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সংশোধনী প্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তন্মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার অংশের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং রামু-ঘুমধুম অংশের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রেলপথ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের ঘুনধুমে দুটি স্টেশনও নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রুট-১-এ সংযুক্ত হওয়া। এ অংশে অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগি না পাওয়ায় অনুমোদিত ২য় সংশোধিত ডিপিপিতে ঐ অংশের কাজ প্রকল্পের হতে বাদ দেওয় হয়। এতে করে প্রকল্পের ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা  হ্রাস করা হয়।

অন্যদিকে দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে পুনর্বাসন এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ১ম সংশোধিত ডিপিপি’র তুলনায় ২য় সংশোধিত ডিপিপি’তে প্রায় ৭০৯ কোটি ৭৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে, পূর্ত প্যাকেজে সাশ্রয় হবে প্রায় ১৯০২ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার টাকা, সিডি-ভ্যাট বাবদ সাশ্রয় ৪৮৪ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা, পরামর্শক সেবা খাতে ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট খাতে ১৮ কোটি ৯৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, কন্টিজেন্সি খাতে ৯৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। 

অর্থাৎ দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে ১ম সংশোধিত ডিপিপি’র তুলনায় অনুমোদিত ২য় সংশোধিত ডিপিপি’তে প্রায় ৪১৪০ কোটি ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে।

সর্বোপরি দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১ম সংশোধিত ডিপিপি’র তুলনায় অনুমোদিত ২য় সংশোধিত ডিপিপি’তে প্রায় ৬৬৯৮ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের জেলা পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেলে যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। ফলে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুনধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করে। মাত্র ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০১৩ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত তহবিল সংকট ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তখন আর কাজ শুরু করতে পারেনি। সেই একই প্রকল্প ২০১৪ সালে নকশা পরিবর্তন করে ডুয়েল গেজ হওয়ার ফলে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। যা সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প হিসেবে গৃহিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সেসময়ে তীব্র সমালোচনা হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি সংশ্লিষ্টরা। কাজে নানা অনিয়মের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সেবিষয়ে ভ্রুক্ষেপ ছিলনা কর্তৃপক্ষের। পরে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই তরিঘরি করে ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রেললাইন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

পরে সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ইস্যুতে আন্দোলনে নামে ছাত্ররা। সেই আন্দোলন পর্যাক্রমে একাধিক রাজনৈতিক দল ও জনতার সমর্থনে সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নিলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতন হয়। ৮ আগস্ট অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ, শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সরকারের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সংস্কারের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটির ডিপিপি পূণরায় মূল্যায়ন করা হয়। সেসময় মূল্যায়নে কিছু পরিবর্তণ আনা হয়। ফলে ব্যয় কমে দাঁড়ায় ১১৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যা পূর্বের তুলনায় ৬৬৯৮ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সময়ে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলেল মহ্ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিচক্ষণতায় রেলের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এটা সরকারের একটা বড় অর্জন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলেই সবার সহযোগিতা এটি সম্ভব হয়েছে।
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
আগস্টে চালু হবে বরিশাল শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আগস্টে চালু হবে বরিশাল শিশু হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ হাজার মরদেহ, নেই উদ্ধার তৎপরতা
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ হাজার মরদেহ, নেই উদ্ধার তৎপরতা
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg