বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ।
গত ২১ জানুয়ারি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূল আলোচ্য ছিল—বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি। সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশকে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে; অন্যথায় বিকল্প দল নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশকে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ড ‘সি’ গ্রুপে জায়গা পাবে এবং গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলবে কলকাতায়। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শনিবার সকালে গৃহীত হয়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্ত আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, বাংলাদেশের দাবিগুলো আইসিসির নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলেনি, ফলে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আইসিসির আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
এই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসি বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ গুপ্ত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ক্রিকবাজ ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবার দুবাইয়ে আইসিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নেন বলে জানা গেছে। এর আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে বিসিবি আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) দ্বারস্থ হলেও সেই আপিল খারিজ হয়ে যায় এবং আইসিসির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
দেশবার্তা/একে