ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০:৩৯
চলমান বার্তা:
২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে শেষ হলো যাঁদের পথচলা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৪৯  (ভিজিটর : )

প্রতিটি বিশ্বকাপই ফুটবল বিশ্বকে কিছু নতুন নায়কের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, আবার একই সঙ্গে অনেক কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়ের নিরব সাক্ষী হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সবুজ গালিচায় সাফল্য, স্মৃতির অমলিন মুহূর্ত আর অগণিত আবেগ উপহার দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন একঝাঁক মহাতারকা।

এই বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন জার্মানির মানুয়েল নয়্যার, ব্রাজিলের নেইমার, আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজ, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়া, চেক প্রজাতন্ত্রের প্যাট্রিক শিক এবং ফ্রান্সকে বিশ্বজয়ের স্বাদ দেওয়া সফল কোচ দিদিয়ের দেশম।

মানুয়েল নয়্যার (জার্মানি)

২০০৯ সালে জার্মানির জার্সিতে অভিষেকের পর আধুনিক গোলকিপিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন মানুয়েল নয়্যার। বক্স ছেড়ে দূর পর্যন্ত উঠে আসা, পায়ে নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ আর সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে বলা হতো ‘সুইপার-কিপার’-এর প্রতীক। জার্মানির হয়ে খেলেছেন ১২৮টি ম্যাচ, অংশ নিয়েছেন টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে। 

২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি, অর্জন করেছিলেন সেরা গোলরক্ষকের 'গোল্ডেন গ্লাভ'। মাঝে অবসর ভেঙে ফিরলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এবার চিরতরে জার্মানির জার্সি তুলে রাখলেন এই কিংবদন্তি।

নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল)

২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে হলুদ জার্সিতে যাত্রা শুরু হয়েছিল নেইমারের। একের পর এক জাদুকরি পারফরম্যান্সে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল) হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০১৩ সালে কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে দেশকে ঐতিহাসিক সোনা এনে দিলেও, কেবল সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফিটাই তাঁর অধরা থেকে গেল। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পরপরই জাতীয় দলকে বিদায় জানান এই ফরোয়ার্ড।

রিয়াদ মাহরেজ (আলজেরিয়া)

আলজেরিয়ার সোনালি প্রজন্মের মূল কাণ্ডারি ছিলেন রিয়াদ মাহরেজ। ২০১৪ সালে অভিষেকের বছরেই আলজেরিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তোলেন তিনি। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত আসে ২০১৯ সালে, যখন অধিনায়ক হিসেবে দলকে জেতান আফ্রিকা কাপ অব নেশনস। ওই আসরের সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর শেষ মুহূর্তের ফ্রি-কিক গোলটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এই বিশ্বকাপই ছিল তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট।

গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো)

২০০৫ সালে অভিষেকের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর পোস্ট সামলেছেন গিয়ের্মো ওচোয়া। বিশ্বকাপ এলেই যেন তিনি হয়ে উঠতেন দুর্ভেদ্য এক দেয়াল। ২০১৪ সালে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সেভগুলো আজও স্মরণে রেখেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। 

এছাড়া ২০১৮ সালে জার্মানি ও ২০২২ সালে লেভানডফস্কির পেনাল্টি ঠেকিয়ে তিনি কুড়ান ভূয়সী প্রশংসা। বর্ণিল এই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে ওচোয়া বেছে নিলেন নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপকেই।

প্যাট্রিক শিক (চেক প্রজাতন্ত্র)

২০১৬ সালে অভিষেকের পর থেকেই চেক প্রজাতন্ত্রের আক্রমণভাগের ভরসা ছিলেন প্যাট্রিক শিক। তবে ফুটবল বিশ্ব তাঁকে চিরদিন মনে রাখবে ২০২০ ইউরোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেওয়া সেই প্রায় ৫০ গজ দূর থেকে করা অবিশ্বাস্য গোলটির জন্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে আগের সেই চেনা রূপ দেখা না গেলেও, প্যাট্রিক শিকের বিদায় ফুটবলের এক সুন্দর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।

দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স)

খেলোয়াড় ও কোচ- উভয় হিসেবেই বিশ্বকাপ জয়ের অতিমানবীয় কীর্তি গড়া হাতে গোনা ব্যক্তিত্বদের একজন দিদিয়ের দেশম। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। এর দুই দশক পর, ২০১৮ সালে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কোচ হিসেবেও দলকে বিশ্বসেরা বানান। ১৪ বছরের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে জিতেছেন উয়েফা নেশনস লিগও। 

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া এই কোচের শেষটা অবশ্য হয়েছে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তৃতীয় স্থান নিয়ে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।