সিলেটে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না এবং এই সংকট নিরসনে গৃহীত সুরমা নদীর মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সিলেট নগরীর উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর পাড়ে আজ যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো, এটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। নগরবাসীকে বন্যা ও জলজট থেকে মুক্তি দিতে এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ এই অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু করা হবে। এছাড়া সিলেটের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচী এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
এর আগে সিলেট সফরের শুরুতেই ওলি-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটের ঐতিহ্য মেনে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তিনি মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান।
এর আগে প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে সকাল ১০টায় স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে নিয়ে ইউএসবাংলার একটি বিশেষ বিমানযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছান। পরে সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় শাহজালাল (রহ.) মাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এসময় তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত সেই বাসে চড়েই বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হন।
সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং জিয়ারত শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। মাজার জিয়ারতের সময় তার সাথে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যা সমাধানে সুরমা নদীর তীরে মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার বেলা ১১টায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় তিনি ‘বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের’ ফলক উন্মোচন করেন। পরে মোনাজাত শেষে প্রকৌশলী প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন।
এসময় তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং নকশা পর্যবেক্ষণ করেন।
দেশবার্তা/একে