ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  শনিবার | ২ মে ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৮:০৮
চলমান বার্তা:
এশিয়ার আট দেশের ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৫:০৮  (ভিজিটর : )

ইরান এবং তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত অধিকাংশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিএনএন-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল এইড, যিনি এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ সম্পর্কে অবগত, তিনি জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, এই হামলার ফলে তার একটি বড় অংশই এখন অচল। ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এই পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিএনএন-এর এই তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। 

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

অন্যদিকে কিছু সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন, কৌশলগত সুবিধার কথা চিন্তা করে বিপুল অর্থ ব্যয় করে হলেও এগুলো মেরামত করা প্রয়োজন। পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে অপর এক মার্কিন সূত্র মন্তব্য করেছে, এর আগে কখনো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থা দেখা যায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দুষ্প্রাপ্য সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মূলত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে আঘাত করেছে।

কংগ্রেসনাল এইডের মতে, রাডার ব্যবস্থাগুলো ওই অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি এবং সীমিত সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও ইরান সেগুলোকে সবচেয়ে লাভজনক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করেছে। এই সম্পদগুলো প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাধ্য, তেমনি অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি গত বুধবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। 

তবে সিএনএন-এর নিজস্ব সূত্র দাবি করেছে, অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী এই ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। যুদ্ধের এই বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। 

একজন সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা কোনোভাবেই অভেদ্য নয়। 

উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করায় তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
রাষ্ট্রের কাঠামো কীভাবে ঠিক করা যাবে, তা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত: মির্জা ফখরুল
রাষ্ট্রের কাঠামো কীভাবে ঠিক করা যাবে, তা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত: মির্জা ফখরুল
এশিয়ার আট দেশের ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
এশিয়ার আট দেশের ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg