সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের চিত্র আজ ছিল একেবারেই ভিন্ন। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে অ্যাথলেটদের কুচকাওয়াজ আর রঙিন প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের নতুন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’–এর শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। সিলেট থেকে মূল উদ্বোধন হলেও সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো ভার্চুয়ালি এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সত্তরের দশকে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল ‘নতুন কুঁড়ি’। দীর্ঘ বছর পর সেই একই নামে এবার শুরু হলো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে ঢাকা থেকে যোগ দিয়েছেন দেশের ৩২ জন তারকা খেলোয়াড়। ফুটবল, ক্রিকেট ও কাবাডিসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের এসব দেশসেরা খেলোয়াড় আগামীর তারকাদের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ছিল যেন সব আয়োজন শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে ঢাকার বাইরে থেকেও শুরু হয়।
প্রতিযোগিতাটি ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে আটটি জনপ্রিয় ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে এটি জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্বের খেলাগুলো শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো দেশকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ মোট ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন-ে এই চার ইভেন্টে খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবায় অনুসরণ করা হবে আন্তর্জাতিক ‘সুইস লিগ’ পদ্ধতি। এ ছাড়া অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে হিট এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের সময়সীমায় সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন খুদে ক্রীড়াবিদ আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ছেলের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। এলাকাভিত্তিক হিসেবে ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৩৮৭ জন এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সর্বনিম্ন ৭ হাজার ৯৬৬ জন নিবন্ধন করেছেন। মেধা মূল্যায়নে প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করছে।
দেশবার্তা/একে