ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর এবার উভয় দেশই নিজেদের ‘বিজয়ী’ হিসেবে দাবি করছে। দীর্ঘ উত্তেজনার পর একটি সম্ভাব্য সমঝোতার রূপরেখা সামনে আসলেও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র ইসরায়েলে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতা।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ বুধবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধে তারা একটি ‘ঐতিহাসিক’ বিজয় অর্জন করেছে। তেহরানের দাবি, তারা পরিকল্পিত আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা প্রস্তাবের রূপরেখা মেনে নিতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়েছে।
পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং পর্যায়ক্রমে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এ ছাড়া অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টিও ইরানের শর্তের তালিকায় রয়েছে।
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে এই বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে এই আলোচনার অর্থ কোনোভাবেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই বিজয় দাবিকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ ঘোষণা করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোই ওয়াশিংটনের বড় সাফল্য। ট্রাম্প মনে করেন, চীনের মধ্যস্থতা ও প্রভাবেই ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি এখন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘নিখুঁতভাবে দেখাশোনা’ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
যদিও তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি, তবুও ট্রাম্প একটি ১৫ দফার শক্তিশালী রূপরেখা তৈরির কথা জানিয়েছেন যার অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এদিকে এই যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য চরম পরাজয় হিসেবে দেখছেন দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাসে এর আগে কখনোই ইসরায়েল এমন রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লাপিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন নেতানিয়াহুর সরকার আলোচনার টেবিলের আশেপাশেও ছিল না।
লাপিদের মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে এবং সাধারণ জনগণ অসামান্য ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি যুদ্ধ শুরুর সময় যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি বলে দাবি করেন এই বিরোধী নেতা।
দেশবার্তা/একে