ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১৯:৩৫
চলমান বার্তা:
নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা হোক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক
নজরুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১৯:৩৫ আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ১৯:৪৫  (ভিজিটর : )

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা। বছরজুড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বসবাস করা লাখো মানুষ ঈদ এলেই ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার এই যাত্রা যেন এক অনন্য অনুভূতির নাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর ঈদযাত্রা অনেকের জন্য হয়ে ওঠে দুর্ভোগ, ক্লান্তি ও আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, সড়ক দুর্ঘটনা ও অনিয়মের কারণে স্বস্তির বদলে যাত্রাপথে নেমে আসে ভোগান্তি।

আজ (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। এই দিন থেকে যাত্রাপথের চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বসবাস করা লাখো মানুষ ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে।

ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও কঠোর তদারকি। সড়ক-মহাসড়কে যানজট কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন, তা ঈদের আগেই সম্পন্ন করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে রাস্তার কাজ শুরু হয়, যা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। ঈদের সময় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিছু অসাধু পরিবহন মালিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সাধারণ মানুষের কষ্টকে পুঁজি করে মুনাফা লুটে নেয়। প্রশাসনকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা যায়।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গতি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা কমাতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল বন্ধ করতে হবে। কারণ একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি পরিবারের ঈদের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করতে পারে।

রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। নৌযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে। যাত্রাপথে বিশ্রামাগার, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।

এছাড়া ঈদযাত্রা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। যাত্রীদেরও ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। অযথা ছাদে ভ্রমণ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠানামা কিংবা ট্রাফিক আইন অমান্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ঈদ আনন্দের উৎসব। এই আনন্দ যেন যাত্রাপথের কষ্টে ম্লান না হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা প্রতিটি মানুষের যাত্রা হোক নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও শান্তিময়। পরিবারে ফিরুক হাসি, রাস্তায় না ঝরুক কোনো প্রাণ। এবারের ঈদযাত্রা হোক মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

লেখক: গণমাধ্যম ও সমাজকর্মী নজরুল ইসলাম






মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের ১০ জন একই ইউনিয়নের, সবাই ফেরিওয়ালা
ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের ১০ জন একই ইউনিয়নের, সবাই ফেরিওয়ালা
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আমজাদ
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আমজাদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg