চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করে একদল সন্ত্রাসী রোববার গভীর রাতে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে। গভীর রাতে ঘটনা ঘটলেও রাতেই দ্রুততম সময়ে পুলিশ, র্যাবসহ যৌথবাহিনী সাঁড়াশি অভিযানে নামে। আলিনগর থেকে ২০-২৫ সন্দেহভাজনকে আটক করে যাচাই বাছাই করছেন। বর্তমানে সেখানে এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অভিযান পরিচালনা করছেন।
জানা যায়, ভ্যাকু মেশিন দিয়ে সলিমপুর-আলিনগর সড়ক চার-পাঁচ ফুট করে কেটে বড় গর্ত করা হয়। পরপর একই সড়কে তিনটি স্থানে এভাবে গর্ত করে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী করা হয়। তারপর একদল সন্ত্রাসী র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে শুরু করেন গুলিবর্ষণ। বুলডোজার দিয়ে নতুন ক্যাম্পের স্থাপনা ভেঙে দেয়। এভাবে দুই ঘণ্টা তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা।
র্যাব জানায়, সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতেই আলীনগরে পৌঁছে অভিযান চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, রোববার গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাবের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালালে র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। আমরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাতে না পারি সে জন্য তারা রাস্তা কেটে দেয়। কিন্তু হামলার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পৌঁছে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একপর্যায়ে কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের যাচাই বাছাই চলছে।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে একটি সড়ক পাহাড়ের ভেতরে চলে গেছে। সে সড়ক দিয়েই প্রথমে জঙ্গল সলিমপুর যেতে হয়। তারপর আলীনগর যাওয়া যায়। বিশাল এ এলাকাটি ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে রাজত্ব করে আসছে ইয়াছিন বাহিনী।
প্রথমবারের মতো গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বরং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে র্যাব আলীনগরে একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। ওই সময় যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়নি।
দেশবার্তা/একে