গাইবান্ধায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা, বাউল ও জারি গান এবং গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী এসব বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল করিম মিয়া এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। এতে গাইবান্ধা পৌরসভা, জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্ব-স্ব ব্যানারে অংশগ্রহণ করে। পরে স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে শোভাযাত্রা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তাভাতের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সংস্থাটি পরিচালিত বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও আনন্দলোক বিদ্যালয় বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে।
বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গাইবান্ধা জেলা সংসদ দিনটি উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদযাপিত হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে সেখানে পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়, যা উৎসবে আগত মানুষের মাঝে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ‘ব্রাদারহুড অব কামারজানী’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নওশা মিয়া এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মাহবুবুর রহমান।
জেলা গাইবান্ধার সাত উপজেলা পর্যায়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে করা হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ