দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটাতে বড় সুসংবাদ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ডিজেলবাহী চারটি বিশালাকার ট্যাংকার। আজ শুক্রবার ও আগামী রোববারের মধ্যে এই জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার তিনটি জাহাজ—এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা। এ ছাড়া আগামী রোববার এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের চতুর্থ ট্যাংকারটি বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছালে দ্রুততম সময়ে তেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিপিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই চারটি ট্যাংকারে করে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল দেশে আসছে, যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন আসা চালানগুলো যুক্ত হলে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। এই মজুত দিয়ে দেশের সার্বিক প্রয়োজন প্রায় ২৫ দিন অনায়াসে মিটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ হয় ডিজেলের মাধ্যমে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। চাহিদার সিংহভাগই সরাসরি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয় এবং বাকি ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত এই ডিজেলের ওপরই নির্ভর করে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা। বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান থেকে শুরু করে কৃষির সেচযন্ত্র ও শিল্প-কারখানার জেনারেটর পরিচালনায় এর ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষ করে কৃষি খাতে মোট ডিজেলের ২৪ শতাংশ ব্যবহৃত হওয়ায় এই আমদানি কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।
দেশবার্তা/একে