যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান অন্তত ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরানের এই নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আগামীকাল শনিবার দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারা। ট্রাম্পের এই নতুন বক্তব্যে সেই অচলাবস্থা কাটার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হোয়াইট হাউজ থেকে পরে নেভাদার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে মার্কিন মূল্যস্ফীতির ওপর। সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়টিকে সামনে এনেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়। কয়েক সপ্তাহের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চললেও ট্রাম্প মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবরোধ ও সামরিক চাপের কারণেই তেহরান চুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প বলেন, “বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অবিশ্বাস্য রকম ভালো পর্যায়ে আছে। গত চার সপ্তাহের শক্তিশালী অবরোধ ও বোমাবর্ষণের ফলেই সম্ভবত তারা এই চুক্তিতে আসতে চাইছে।”
যদি এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে এটি হবে একটি বড় মাইলফলক।
সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিশ্ব কূটনীতি—সবার নজর এখন আগামী শনিবারের বৈঠকের দিকে। তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে এই সম্ভাব্য চুক্তির ওপর।
দেশবার্তা/একে