দেশে জঙ্গি আছে—এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই।’
মঙ্গলবার একই দিনে সরকারের দুই কর্তাব্যক্তির পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্যে এলো। জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দেশে জঙ্গি রয়েছে। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে জনগণকে আতঙ্কিত হতে হবে।’
অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচার হয়েছে বলে অভিযোগ ডা. জাহেদ উর রহমানের। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘দেশে জঙ্গি নেই’ এ বক্তব্যও সঠিক ছিল না বলে জানান তিনি। সকালে সচিবালয়ে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্যদিকে দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই।’
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। তবে এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ (উগ্রবাদী গোষ্ঠী) থাকে। পৃথিবীর সব দেশেই এরা থাকে। কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী, বা মৌলবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী থাকে—আমরা সেগুলোর সঙ্গে পরিচিত।’
রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তালিকায় থাকা ১৬১১ জঙ্গি বর্তমানে আবার মাঠে সক্রিয়। এই জঙ্গিদের বেশির ভাগ বিভিন্ন সময় জামিনে মুক্ত হয়ে নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য সংগঠিত হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে কঠোর নজরদারি শুরু করেছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
ওই তালিকার তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত জামিন পেয়েছে আরো ৩৮০ জন। এই ৩৮০ জনের মধ্যে সাতজন আনসার আল ইসলাম, চারজন এবিটি, ৬৮ জন জেএমবি, ছয়জন নব্য-জেএমবি, ছয়জন হিযবুত তাহরীর, চারজন ইমাম মাহমুদের কাফেলা, চারজন হুজি, ১৫ জন জেএএফএইচএস এবং ২৬৫ জন নাম-উল্লেখ না থাকা সংগঠনের সদস্য।
এর মধ্যে ১১৪ জন জামিন পাওয়ার পর থেকে আর কখনো আদালতে হাজিরা দেননি। আরো ৯৬ জন কোথায় আছেন তারও কোনো হদিস নেই। আবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।’
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের আটটি বিমানবন্দরসহ ১২টি কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় সতর্কতা জারির পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে বন্দি জঙ্গি
গোয়েন্দা তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ১৬টি কারাগারে ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে বিচারাধীন আছেন ৩২ জন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৯ জন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৬ জন ও অন্যান্য ২৫ জন। সূত্র: কালের কণ্ঠ
দেশবার্তা/একে