আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার খামারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক ও শ্রমিকেরা। তবে এবারের কোরবানির হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খেয়ে বড় হওয়া এই গরুটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মালেগো বাড়ির বাসিন্দা খামারি মো. আলী এবারের কোরবানির হাটের জন্য তাঁর খামারে ছয়টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘জমিদার’। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা এবং ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই গরুটির ওজন ১৫ থেকে ১৬ মণ।
খামারি মো. আলী জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি খামার পরিচালনা করছেন। দুই বছর আগে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা এই গরুটিকে গত ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ কেজি কাঁচা ঘাস, গম, ভুট্টা ভাঙা ও খৈলসহ সুষম খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। অন্য গরুর চেয়ে বেশি খাবার খাওয়ার কারণেই শখ করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’।
খামারি আলীর আশা, এবারের হাটে জমিদারের দাম উঠবে ৪ লাখ টাকা। তাঁর দাবি, ভোলা সদর উপজেলায় এত বড় ও পরিপুষ্ট দেশীয় গরু আর দ্বিতীয়টি নেই। জমিদারের পাশাপাশি তাঁর খামারে বাহাদুর, বাদশা, রাজা, কালাচাঁদ ও লালচাঁদ নামের আরও পাঁচটি গরু হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, খামারিদের সবসময় দেশীয় পদ্ধতিতে এবং ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘জমিদার’ নামের গরুটিও দেশীয় খাবার খেয়ে বড় হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, কোনো খামারি যদি অবৈধ উপায়ে গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/একে