সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে দেশজুড়ে চলা আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশনায় গঠিত এই তিন সদস্যের কমিটিকে- ‘কেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলেনি’, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং আইনজীবী ফয়সালা দস্তগীর।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
তবে এই তদন্ত কমিটিতে হাবিবুল বাশার সুমনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কিছুটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সিরিজের ব্যস্ততার মধ্যেই তাকে এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ের তদন্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, সুমন শুধু এই কমিটিই নয়, ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে না খেলার প্রেক্ষাপটটি ছিল বেশ নাটকীয়। এর আগে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি ভারতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য অনিরাপদ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এবং বিশ্বকাপে না খেলার ইঙ্গিত দেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) সে সময় তার এই অবস্থানের পক্ষে দাঁড়ায়।
পরবর্তীতে বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবি জানানো হলেও বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাতে সাড়া দেয়নি। আইসিসি এবং বিসিবি—উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে আর নামা হয়নি বাংলাদেশের। সরকারের এই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এখন সেই সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ ও প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে।
দেশবার্তা/একে