ঢাকা সেনানিবাসে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর পরিদপ্তরে পৌঁছালে পরিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পরিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে আইএসপিআরের পরিচালক পরিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে ছিল গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়, সংবাদ পরিবেশন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরার চলমান উদ্যোগ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআরের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন এবং দৈনন্দিন কার্যপ্রণালি, সংবাদ প্রস্তুত ও প্রচার প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম সমন্বয় কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শান্তিকালীন, দুর্যোগকালীন এবং জাতীয় সংকটের সময় জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, সংরক্ষিত তথ্যপ্রবাহ, সীমিত প্রচার এবং পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততার অভাবে অনেক সময় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ পূর্ণাঙ্গ ধারণা পায় না। এ কারণে আইএসপিআরকে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আইএসপিআরকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি গবেষণা, তথ্য সংরক্ষণ, গণমাধ্যম সমন্বয়, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রকাশনা কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড দেশি-বিদেশি পরিমণ্ডলে যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
দেশবার্তা/আরএইচ