ফেনী থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তরুণ ক্রীড়া সংগঠক শরিফুল ইসলাম অপু। তার এই মনোনয়নের খবরে জেলার ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, সংগঠক হিসেবে দক্ষতা এবং ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সরব থাকলেও অতীতে বিসিবি কিংবা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো কমিটিতে তার স্থান হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে শরিফুল ইসলাম অপুর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ডাক্তারপাড়া ক্লাবের মাধ্যমে তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু হয়। পরে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে তিনি নজর কাড়েন। ২০০৪ সালে জাতীয় স্কুল-মাদরাসা ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়া পাইলট হাই স্কুল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফেনী জেলা দলের হয়ে ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন অপু। একই বছর ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ফেনী প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে তার অভিষেক হয়। তবে ২০০৬ সালে সোনাগাজীতে একটি টুর্নামেন্টে খেলার সময় ডান হাত ভেঙে গুরুতর চোট পান তিনি। এই চোটের কারণে অল্প বয়সেই তার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি ঘটে।
খেলোয়াড়ি জীবন থমকে গেলেও সেই অল্প বয়সেই সংগঠক হিসেবে তার নতুন যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ সালে ফেনীতে মেধাবী খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে তিনি ‘ক্রিকেট ইনস্টিটিউট’ নামে একটি একাডেমি গড়ে তোলেন। তার হাত ধরেই ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাব ও ক্রিকেট ইনস্টিটিউট থেকে উঠে আসেন জাতীয় দলে ফেনীর একমাত্র ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এছাড়া বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বয়সভিত্তিক দলে ফেনীর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিবন্ধিত আম্পায়ার হিসেবেও তালিকাভুক্ত হন।
শরিফুল ইসলাম অপুর উদ্যোগে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ‘এফপিএল’ নামের একটি জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়, যা স্থানীয় ক্রিকেটে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করে। এসব আয়োজনে তিনি ও তার সহকর্মীরা দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ত করে চমক দেখান। ২০১১ সালে এফপিএল সংগঠনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি উদ্যোগে স্কুল ক্রিকেটের আয়োজন করেন তিনি।
পরে ২০১৪ সালে যুব খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘এফপিএল টি-২০’ এবং কিন্ডারগার্টেনের ছোট শিশুদের নিয়ে ‘এফপিএল ফিউচার ক্রিকেট উৎসব’ আয়োজন করেন, যা অভিভাবকদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে। ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ক্রীড়া সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া লেখক হিসেবেও শরিফুল ইসলাম অপুর পরিচিতি রয়েছে। দৈনিক ফেনীর সময় পত্রিকায় ক্রীড়া লেখক হিসেবে কাজ শুরু করার পর বর্তমানে তিনি পত্রিকাটির বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত ক্রীড়া কলাম লিখছেন।
ক্রীড়াঙ্গনের বাইরেও সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের যুব সংগঠন রোটার্যাক্টের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থেকে ২০২৩-২৪ মেয়াদে সারা দেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ভলান্টিয়ার সার্ভিসের ওপর তার আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী জেলা ইউনিটের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন অপু।
এছাড়া জেলার তরুণদের নিয়ে যুব নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে অসংখ্য কর্মশালা ও সেমিনার করেছেন তিনি, যার মাধ্যমে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে কর্মরত এবং একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।
নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর শরিফুল ইসলাম অপু সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি ফেনী তথা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দেশবার্তা/একে