সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহজনক রোগী ভর্তি না করার বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের জন্য ছয়টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সকল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে এবং কোনো রোগীকে ফিরিয়ে না দিয়ে ভর্তির আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট শয্যার ন্যূনতম ১০ শতাংশ দরিদ্র জনগণের জন্য বিনামূল্যে সংরক্ষিত রাখার বিধান রয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সংরক্ষিত শয্যার অর্ধেক অর্থাৎ মোট শয্যার ৫ শতাংশ হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত রাখতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো হাসপাতালে ২৫০টি শয্যা থাকলে সেখানে কমপক্ষে ১২টি শয্যা এই বিশেষ উদ্দেশ্যে বরাদ্দ রাখতে হবে।
হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে। এছাড়া নজরদারি জোরদার করতে ভর্তি হওয়া সব রোগীর তথ্য প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট ইএমএআইএস সার্ভারে (surveillance.dghs.gov.bd) আপলোড করতে হবে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি হটলাইন নম্বরে (০১৭৫৯১১৪৪৮৮) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে হাম রোগীদের সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশবার্তা/একে