যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে রাষ্ট্রীয় একটি কর্মসূচিতে নাম তালিকাভুক্ত করা কয়েক শত তরুণ-তরুণীর জন্য তেহরানে প্রকাশ্য গণবিয়ের আয়োজন করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ মে) গভীর রাতে রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি চত্বরে এই গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সেন্ট্রাল তেহরানের বিশাল ইমাম হোসেন স্কয়ারেই একজোট হয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ১১০টিরও বেশি যুগল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই যুদ্ধকালীন মনোবল বাড়াতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থমকে রয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিয়েতে অংশ নেওয়া এই যুগলরা প্রত্যেকেই সরকারের তথাকথিত ‘আত্মোৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধের প্রয়োজনে নিজেদের জীবন বাজি রাখার অঙ্গীকার করেছেন। যেমন, প্রয়োজনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাইরে মানবঢাল তৈরি করবেন তারা।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বসহ লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে এই তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নবদম্পতিরা সামরিক জিপে চড়ে ইমাম হোসেন স্কয়ারে এসে পৌঁছান, যে জিপগুলোতে মেশিনগান বসানো ছিল। চত্বরে তৈরি একটি বড় মঞ্চে একজন ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
পুরো মঞ্চটি বেলুন এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিশাল ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তার বাবা ও পূর্বসূরি আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার স্থলাভিষিক্ত হন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের ইসলামি বিয়ের পোশাক পরা এক তরুণী তার বরের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, ‘অবশ্যই দেশ এখন যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তরুণ-তরুণীদের তো বিয়ে করারও অধিকার রয়েছে।’ সূত্র: আল-মনিটর
দেশবার্তা/একে