ইরানের কারাবন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ (সিসিইউ) থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কায় কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের কয়েক সপ্তাহ পর তাকে বাসায় পাঠানো হলো।
সোমবার (১৮ মে) নার্গিস মোহাম্মদির পরিবারের পরিচালিত ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি ইরানে নারী অধিকার রক্ষা ও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকার জন্য ২০২৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশন জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই তাকে নতুন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশন জানায়, গত মার্চের শেষের দিকে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন বলে ধারণা করা হয়। এর এক মাস পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জানজানের মুসাভি হাসপাতালের সিসিইউতে ১ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভর্তি রাখা হয়েছিল। পরে মোটা অঙ্কের জামিনে সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর, ১০ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স যোগে তেহরানের পারস হাসপাতালের সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে নার্গিস মোহাম্মদির মেয়ে কিয়ানা রহমানির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সুস্থতার জন্য কারাগারের বাইরে নার্গিস মোহাম্মদির চিকিৎসায় ব্যাপক তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। তাকে আবারও বন্দিশালায় ফেরত পাঠানো হলে, সেটি হবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার শামিল।
এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির সরকারি গণমাধ্যমেও এই ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছরের ডিসেম্বরে আইনজীবী খসরু আলিকোর্দির মৃত্যুর নিন্দা জানানোর পর মাশহাদে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় নার্গিস মোহাম্মদিকে। গ্রেপ্তারের ১৫০ দিন পর সম্প্রতি তার সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সে সময় একজন প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আলিকোর্দির স্মরণসভায় নার্গিস উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন।
তার এই গ্রেপ্তারের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে এবং নোবেল কমিটিও এই ইরানি নোবেলজয়ীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স
দেশবার্তা/একে