কালো কুচকুচে বিশাল দেহের ষাঁড়টির নাম ‘বাহারাম বাদশা’। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রায় এক বছর ধরে আদর-যত্নে গরুটি লালন-পালন করেছেন পাবনার চাটমোহরের খামারি মনিরুল ইসলাম। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টির বিশেষ আকর্ষণ এর খাদ্যাভ্যাস- সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তাকে খাওয়ানো হয় কলা ও আপেল।
খামারির দাবি, বাহারাম বাদশার ওজন প্রায় ৪০ মণ। তবে পরিমাপ অনুযায়ী গরুটি থেকে প্রায় ২৫ মণ মাংস পাওয়া যেতে পারে। এর দাম হাঁকা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছোট গুয়াখড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম এক বছর আগে গরুটি কিনে মোটাতাজাকরণ শুরু করেন। দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভূষি, খড় ও পান্তাভাত খাইয়ে বড় করা হয়েছে বাহারাম বাদশাকে।
মনিরুল ইসলাম জানান, কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি কলা ও আপেল খেতে খুব পছন্দ করে ষাঁড়টি। তাই সপ্তাহে কয়েক দিন বিশেষ যত্নে এসব ফল খাওয়ানো হয়।
বাহারাম বাদশার চলাফেরাও যেন নামের মতোই রাজকীয়। খামারি জানান, কয়েকজন মানুষ মিলে তাকে সামলাতে হয়। বাইরে বের হলে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গরুটি।
এর আগেও বড় আকৃতির গরু লালন-পালন করে পরিচিতি পেয়েছিলেন মনিরুল। ২০১৯ সালে ‘টাইগার’ নামের একটি বিশাল ষাঁড় মোটাতাজা করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। এবার নিজেদের পছন্দে নতুন ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহারাম বাদশা’।
মনিরুলের আশা, বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে গরুটি বড় করেছি। এবারের ঈদের হাটে বাহারাম বাদশা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে চাই।
এক বছর ধরে সন্তানের মতো যত্নে লালন করা প্রিয় ষাঁড়টি বিক্রি হয়ে গেলে কষ্ট লাগবে বলেও জানান তিনি।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ছেলের মতো আদর করে বড় করেছি। বিক্রি হয়ে চলে গেলে পরিবারের সবারই খারাপ লাগবে। তারপরও বিক্রি তো করতেই হবে।
দেশবার্তা/একে