পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। ঈদযাত্রায় সড়কে বাড়তি চাপ ও যানজট এড়াতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এবার ধাপে ধাপে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) রোস্টার অনুযায়ী আজ রোববার থেকে এই ছুটি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আজ সারা দেশের মোট কারখানার প্রায় ছয় শতাংশ অর্থাৎ ১০৮টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল ২৫ মে সোমবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৬৪টি কারখানা বা প্রায় ৩৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ছুটি হবে। ২৬ মে মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি ৭১৩টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হবে, যা মোট তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৪৩ শতাংশ। আর শেষ ধাপে আগামী ২৭ মে ছুটি পাবে বাকি ২৫১টি কারখানা, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।
বিজিএমইএ’র সহ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই রোস্টারের ফলে শ্রমিকেরা একদিকে যেমন সড়কে বড় কোনো ভোগান্তি ও চাপ ছাড়াই স্বস্তিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন, তেমনি ঈদ উদযাপন শেষে সুশৃঙ্খলভাবে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, এবারও সব কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হচ্ছে। কিছু কারখানায় বাকি থাকলেও আজ-কালের মধ্যে তা পরিশোধ করা হবে। সরকারি প্রণোদনার টাকা সময়মতো পাওয়ায় তুলনামূলক দুর্বল কারখানাগুলোও শ্রমিকদের পাওনা মেটাতে পারছে।
আরও জানান, অনেক কারখানা এবার শ্রমিকদের চলতি মে মাসের বেতনও অগ্রিম পরিশোধ করেছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
এদিকে কারখানাগুলো ছুটি হতে থাকায় ঢাকার পাশাপাশি গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শ্রমিকদের এই ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক ও টার্মিনালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ছুটি শেষে শ্রমিকেরা যাতে যথাসময়ে নিরাপদভাবে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে বিষয়েও নজর রাখছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
দেশবার্তা/একে