রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তার নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জুয়া, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার পর চার বছর আগে পরিবার থেকে বিতাড়িত হন সোহেল। এরপর থেকেই নিজের পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর শিশু হত্যাকাণ্ডের খুনি হিসেবে সোহেল রানার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তার গ্রামের বাড়ি সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা একসময় স্থানীয় মহেশচন্দ্রপুর বাজারে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি মারাত্মকভাবে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় এলাকায় চুরি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
জুয়া খেলতে গিয়ে একপর্যায়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি। এই ঋণ ও অপকর্মের জেরে পরিবারে অশান্তি চরম আকার ধারণ করলে প্রায় চার বছর আগে তার বাবা জাকির আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি আর গ্রামে ফেরেননি।
স্বজনরা জানান, বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর সোহেল রানা তার আসল পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর ও অন্যান্য কাজ করে জীবনযাপন করছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে প্রায় ১২ বছর আগে তার প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকার পল্লবী এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
অভিযুক্ত সোহেলের বোন জলি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন অপকর্ম আর ঋণের কারণে বাবা ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে ওর সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। টিভিতে আর ফেসবুকে ওর ছবি দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সোহেলের নিজ এলাকা নাটোরেও তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতক সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
দেশবার্তা/একে