ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭
চলমান বার্তা:
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১৬:০৩  (ভিজিটর : )

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। ভারত ও চীন সফরের আমন্ত্রণ থাকলেও মালয়েশিয়াই হতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিমধ্যে এই সফরসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সব প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবার মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভারত ও চীনের মধ্যকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে সরকার বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই কারণেই দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো বন্ধু রাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। 

এর আগে নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসে। একই সময়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। পরবর্তীতে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকেও বেইজিং সফরের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়। তবে সব সমীকরণ বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য মালয়েশিয়াকেই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই হাই-প্রোফাইল সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হতে পারে। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো নতুন সরকারের প্রধানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর কেবল প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়- এটি সংশ্লিষ্ট সরকারের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও ইঙ্গিতও তুলে ধরে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত বা চীনের মতো পরাশক্তিকে পাশে রেখে শুরুতে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরের মূল এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও এবারের সফরে অভিবাসন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বিশেষ করে শিক্ষা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে মালয়েশিয়ার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক বাংলাদেশি কূটনীতিক। 

তাঁদের মতে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর ব্যক্তিগতভাবে জোর দিচ্ছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশটিতে অবস্থানকারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। 

সংশ্লিষ্টদের আশা, বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজারের সংকট সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশিল্পে নতুন সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।