নওগাঁর রাণীনগরে এতিম শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ‘দালানবাড়ী ফলবাগান’। উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের করজগ্রাম গ্রামে কাজী হযরত আলী, আবু জাহেদ, প্রফেসর জয়নাব, প্রকৌশলী ফাত্তাহ, ডা. মামুন এবং জামেনা স্মৃতির স্মরণে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলবাগানের উদ্বোধন করা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা আবু জাহেদের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কাজী ওয়াহিদুল ইকবালের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বিএমসি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়ালিউল ইসলাম, নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আল মামুন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী আব্দুস ছোবহান, কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ইউডিসি রেজাউল ইসলাম, ফলবাগানের তত্ত্বাবধায়ক হামিদুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইকবাল জানান, তার দাদা কাজী হযরত আলী ও বাবা আবু জাহেদসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন বৃক্ষপ্রেমী। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই নিজ বাড়ির পাশে প্রায় দুই বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সমৃদ্ধ ফলবাগান। বাগানে রয়েছে হানিডিউ, রেড পালমার, মিয়াজাকি (সূর্য ডিম), ব্ল্যাকস্টোন, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্রুনাই কিং, বারি-৪, কাটিমনসহ প্রায় ১৪ জাতের আমগাছ।
তিনি বলেন, “এতিম শিশুরা অনেক সময় তাদের পছন্দের ফল খাওয়ার সুযোগ পায় না। তাই তাদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে তারা নিজেরাই গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতে পারবে। এতে তাদের আনন্দ আরও বেশি হবে।”
তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর ধরে বাগানের ফল সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিতরণ করা হলেও এবার শিশুদের সরাসরি বাগানে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনের পর শতাধিক এতিম শিশু বাগানে প্রবেশ করে উৎসবমুখর পরিবেশে গাছ থেকে আম পাড়ে এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। এ সময় তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ফল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে একটি করে স্কুলব্যাগও উপহার দেওয়া হয়।
জুমার নামাজ শেষে এতিম শিশুদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে ফলবাগানের পাশের আরও প্রায় দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইকবাল।
অনুষ্ঠানের শেষে কাজী ওয়াহিদুল ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, এতিম শিশুদের জন্য এ ধরনের মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শিশুদের শুধু আনন্দই দেবে না, তাদের মধ্যে প্রকৃতি ও বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসাও গড়ে তুলবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ