নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রতি ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজারে অর্থের সরবরাহ কেমন থাকবে, তার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা থাকে এই নীতিতে।
এর আগে, বিদায়ী অর্থবছরের দ্বিতীয় বা শেষার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল গত ৯ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সে সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে দফায় দফায় নীতি সুদহার বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এরপরও মূল্যস্ফীতি টানা দুই অঙ্কের ঘরে অবস্থান করে এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তা সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। ওই বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলন আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করায় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে।
চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবশেষ প্রস্তাবিত বাজেটেও এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং একই সাথে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বজায় রাখার জোড়া চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে আসছে নতুন এই মুদ্রানীতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ হারে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কমিটি আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান বা ‘স্প্রেড’ সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে যে সুদ দেবে, ঋণের সুদের হার তার চেয়ে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ বেশি হতে পারবে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই সুপারিশের প্রতিফলন ঘটে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
দেশবার্তা/একে