টানা ভারী বর্ষণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে। যেসব যাত্রী আগাম টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের মূল্য ফেরত পাবেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, পানি কমে ১০ ইঞ্চির নিচে নেমে আসায় ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে পুনরায় ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই ট্রেন চলাচল আবার শুরু করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দুই থেকে তিন ফুট পানি জমলেও রেললাইন পানির নিচে যাবে না এবং ভারী বর্ষণের সময়ও ট্রেন চলাচল সচল রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু বিদ্যমান রেলপথের সংস্কারেই নয়, নতুন রেললাইন নির্মাণ, আধুনিক লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ এবং দেশের রেলব্যবস্থার সামগ্রিক আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম কয়েকটি এলাকায় রেললাইন তলিয়ে যায়। এর ফলে মঙ্গলবার কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় আট ঘণ্টা ষোলশহর স্টেশনে আটকে থাকে। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন,চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তফিজুর রহমান মিঞা, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ সহ রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ