আলুর বাজারে ধসের ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বাম্পার ফলনের পরও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে রাজশাহীর হাজারো পেঁয়াজচাষী চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। কয়েক মাস আগেও আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন পেঁয়াজচাষীরাও।
রাজশাহীর বিভিন্ন হাটে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, যেখানে গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। উৎপাদন ব্যয়ও উঠছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
তাদের ভাষ্য, দুই মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও এখন এক কেজি ইলিশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদনও হয়েছে ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।
কৃষকেরা বলছেন, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। অথচ বর্তমান বাজারদরে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণে অনেক পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, আবার শুকিয়ে ওজনও কমছে। ফলে লোকসান এড়াতে বাধ্য হয়ে কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
আলুর মতো পেঁয়াজেও একই চক্র বারবার দেখা যাচ্ছে। উৎপাদন বেশি হলেই দাম ভেঙে পড়ে, আর কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ,আধুনিক হিমাগার ও সংরক্ষণব্যবস্থা, কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারদর কমেছে।
এই অবস্থায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ সংগ্রহ ও দীর্ঘমেয়াদি বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশবার্তা/এসবি/একে