ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২১:০৪
চলমান বার্তা:
বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত, সরবরাহব্যবস্থায় সংকটের শঙ্কা
আশরাফ আহমেদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫২  (ভিজিটর : )

বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি আর বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পণ্য খালাস ও সরবরাহের গতি কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানি করা পণ্য দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো যাচ্ছে না।

একই সময়ে বন্দরের টার্মিনাল ও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) জলাবদ্ধতায় আমদানি করা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন আমদানিকারক ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টরা। তবে চট্টগ্রাম বন্দর একে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গম, ভোজ্যতেল, চিনি, সার, ক্লিংকারসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জেও পড়তে শুরু করেছে। সেখানে দৈনিক বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গেল কয়েক দিনে পণ্য ওঠানো-নামানো ও কনটেইনার সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। যদিও ধীরে ধীরে কার্যক্রমে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।

৭ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমে ৪ হাজার ৭৯৭ টিইইউতে নেমে আসে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গড়ে ৯ হাজার থেকে ১১ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। পরে ৮ জুলাই তা বেড়ে ৫ হাজার ২৩২, ৯ জুলাই ৬ হাজার ৪১৪ এবং ১০ জুলাই ৭ হাজার ১৪৬ টিইইউতে পৌঁছায়। তবুও এ সংখ্যা স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় অনেক কম।

কনটেইনার সরবরাহও সীমিত ছিল। ৮ জুলাই বন্দর থেকে ২ হাজার ৬০৬ টিইইউ, ৯ জুলাই ২ হাজার ৮২০ টিইইউ এবং ১০ জুলাই ৩ হাজার ৪৫২ টিইইউ কনটেইনার সরবরাহ করা হয়। এটিও বন্দরের স্বাভাবিক পরিচালন সক্ষমতার তুলনায় অনেক নিচে।

ব্যবসায়ীদের মতে, পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে পড়ায় শিল্প উৎপাদন বিলম্বিত হচ্ছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বার্থ অপারেটর অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার হোসেন সাগর জানান, উত্তাল সাগরের কারণে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় বর্তমানে ৬০টির বেশি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি জাহাজের জন্য দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ ডলার বা ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে এ ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় এ কাজে নিয়োজিত ৪ থেকে ৫ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।