ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২১:০৪
চলমান বার্তা:
দিনভর বৃষ্টিতে ডুবল ঢাকা, দুর্ভোগে নগরবাসী
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৫১  (ভিজিটর : )
জলাবদ্ধতার কারণে ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে তীব্র যানজট। ছবি: দেশবার্তা

জলাবদ্ধতার কারণে ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে তীব্র যানজট। ছবি: দেশবার্তা

টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। গত রাত থেকে আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত মুষলধারে নামা বৃষ্টিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকার জনজীবন। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীতে আজ মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দিনভর এমন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই পানি জমে গেছে। ভিআইপি ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী ও বারিধারাও বাদ যায়নি জলজট থেকে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের একাংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, ইসিবি চত্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, আগারগাঁও-জাহাঙ্গীর গেট নতুন সড়ক, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, শনির আখড়া, পুরান ঢাকার বংশাল ও নাজিমউদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, কালশী এবং হাতিরঝিলের একাংশে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। অনেক নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। মালামাল বাঁচাতে ব্যবসায়ীদের তাড়াহুড়ো করে জিনিসপত্র উঁচুতে সরাতে দেখা গেছে।

সড়কে পানি জমে থাকায় গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নেমে বহু বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বিকল হয়ে পড়েছে। অনেক চালককে গাড়ি ঠেলে গন্তব্যে নিতে দেখা গেছে। এই সুযোগে রিকশা ও ভ্যানচালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া হাঁকছেন। কোনো কোনো এলাকায় পানিবন্দী মানুষকে ভ্যানে করে পারাপার হতে দেখা গেছে।

মিরপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মনে হয়েছে রাস্তা নয়, যেন নদী পার হচ্ছি। পানির নিচে কোথায় খোলা ম্যানহোল বা গর্ত আছে, বোঝার উপায় নেই। প্রতি বছর এত উন্নয়নের কথা শুনি, অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো ঢাকা ডুবে যায়।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তৎপরতার দাবি করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক এই জলজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকেই আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুইক রেসপন্স টিম মাঠে কাজ করছে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান আজ গুলশান, বনানী, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অংশ এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়কের জলজট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ১৬ বছরে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে নালা ও খালের দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মূলত পাঁচ স্তরের কাঠামোগত সংকটের কারণে ঢাকার এই দশা- সড়কের ক্যাচপিট বা পানি নামার ছিদ্রগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকা; ভূগর্ভস্থ ড্রেনগুলো পলি ও কাদায় ভরাট হয়ে যাওয়া; ঢাকার প্রধান খালগুলো অবৈধ দখলে সংকুচিত বা হারিয়ে যাওয়া; পানি সেচ দেওয়ার পাম্পিং স্টেশন ও স্লুইসগেটগুলো অকেজো থাকা; চারপাশের নদনদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের মূল জায়গায় হাত না দিয়ে প্রতি বছর জোড়াতালির সমাধান খোঁজার কারণেই বর্ষা এলেই ঢাকাবাসীকে এই চেনা দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।