লন্ডনের হাইড পার্কে অনুষ্ঠিত র্যাপার পিটবুলের কনসার্ট শুধু সংগীতপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়েছে এক অভিনব গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও। পিটবুলের স্বাক্ষরধর্মী লুক অনুসরণ করে ২২ হাজার ১৪১ জন দর্শক একসঙ্গে ‘টাক টুপি’ পরে অংশ নেন রেকর্ড গড়ার আয়োজনে।
তীব্র প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমেও অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মাথায় প্লাস্টিকের টাক টুপি, পরনে সাদা শার্ট, কালো টাই এবং চোখে এভিয়েটর সানগ্লাস পরে হাজির হন। বিএসটি হাইড পার্ক ফেস্টিভ্যালে পিটবুলকে সম্মান জানাতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
রেকর্ড গড়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত পিটবুল বলেন, ‘আমি সত্যিই ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কে ভেবেছিল, প্রথম প্রজন্মের একজন কিউবান হয়ে আমি এমন একটি বিশ্ব রেকর্ডের অংশ হব!’
মজার বিষয় হলো, বাস্তব জীবনেও টাক মাথার অধিকারী পিটবুলকে রেকর্ডের নিয়ম মেনে নিজেকেও একটি ‘টাক টুপি’ পরতে হয়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক উইল মুনফোর্ড জানান, এটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টাক মানুষের সমাবেশের রেকর্ড নয়; বরং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের একযোগে ‘টাক টুপি’ পরার রেকর্ড। তাই পিটবুলকেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হয়েছে।
রেকর্ডের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রবেশপথে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে যাচাই করেন। পাশাপাশি ব্যাকস্টেজে ৪২ জন গণনাকারী ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করেন।
কনসার্টের আগে টাক টুপির চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেক ভক্ত শেষ মুহূর্তে এটি সংগ্রহ করতে হিমশিম খান। ৩০ বছর বয়সী ভক্ত লুসি জানান, তিনি তিনটি আলাদা কস্টিউমের দোকানে ঘুরেও টুপি পাননি। পরে কোনোভাবে একটি সংগ্রহ করে স্বস্তি পান।
অবাক করার বিষয়, এই বিশ্ব রেকর্ডের ধারণা পিটবুল, আয়োজক কিংবা গিনেস কর্তৃপক্ষের কারও নয়। এর সূচনা করেন পডকাস্ট হোস্ট ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক জ্যাক রেমিংটন। গত বছর পিটবুলের কনসার্ট ঘোষণার পর টিকটকে তিনি মজা করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বলেন, হাজারো মানুষ যদি পিটবুলের মতো সেজে কনসার্টে আসে, তাহলে সহজেই একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়া সম্ভব।
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ও বিবিসি রেডিও–১-এর উপস্থাপক গ্রেগ জেমস বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন। পরে পিটবুলের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হলে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় ‘দেল!’- অর্থাৎ ‘চল শুরু করা যাক’- বলে সম্মতি জানান।
গিনেসের বিচারক উইল মুনফোর্ড বলেন, এই রেকর্ডের মূল্য শুধু সংখ্যায় নয়; বরং হাজারো মানুষকে একটি আনন্দঘন অভিজ্ঞতার অংশ করে তোলাই এর সবচেয়ে বড় সাফল্য।
পিটবুলকে অনুসরণ করে সাজগোজ করার এই ট্রেন্ড শুরু হয় ২০২১ সালে। কয়েকজন ভক্ত প্রথমে মজা করে তার স্টাইলে কনসার্টে হাজির হলেও পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিশ্বজুড়ে ফ্যান সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। বর্তমানে পিটবুলের কনসার্টে তার মতো সেজে আসা অনেক ভক্তের কাছেই এক ধরনের অলিখিত রীতি।
ভক্তদের এই ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে পিটবুল তাদের নাম দিয়েছেন ‘দ্য বাল্ডিস’। এমনকি নিজের ওয়েবসাইটে ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড কিট’ ও বিশেষ টাক টুপিও বিক্রি করছেন, যার দুটিই বর্তমানে বিক্রি শেষ।
কনসার্টে উপস্থিত ভক্ত শাওনা বলেন, ‘এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণবন্ত এবং নির্ভার দর্শকসমাগমের একটি। চারপাশে এত দুশ্চিন্তার মধ্যেও যদি একটা টাক টুপি পরে পুরোনো প্রিয় গানগুলোর সঙ্গে নেচে কিছুটা আনন্দ পাওয়া যায়, সেটাই তো বড় বিষয়।’
সূর্য ডোবার পর মঞ্চে উঠে হাজারো ‘বাল্ডিস’কে একসঙ্গে নিজের গান গাইতে দেখে দৃশ্যতই বিস্মিত হন পিটবুল। এই মুহূর্তকে স্মরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে এত ‘বাল্ডিস’-কে একসঙ্গে দেখা আমার জন্য আশীর্বাদ ও সম্মানের।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
দেশবার্তা/একে